দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনকে সমর্থন জানাতে একজোট হচ্ছে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকেরা। ব্রাজিল, মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও চিলিসহ অঞ্চলের বহু দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আর্জেন্টিনাবিরোধী নানা রসিকতা, ব্যঙ্গচিত্র ও সমালোচনা।
ভাইরাল হওয়া একটি সম্পাদিত ছবিতে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখানো হয়েছে। ছবির শিরোনাম ছিল, ‘ব্রাজিলের মানুষের আশা’। এতে বোঝানো হয়েছে, ফাইনালে স্পেনই এখন আর্জেন্টিনাকে হারানোর ভরসা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরূপ মনোভাব শুধু ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফল নয়। অনেকের ধারণা, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে রেফারিদের সহায়তা পেয়েছে। যদিও এসব সিদ্ধান্তকে ফিফা ও বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ সঠিক বলেই সমর্থন দিয়েছেন।
কলম্বিয়ার সমাজবিজ্ঞানী জার্মান গোমেজের মতে, একসময় লাতিন আমেরিকার দেশগুলো বিশ্বকাপে নিজেদের অঞ্চলের দলকে সমর্থন করলেও আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে সেই সংহতি ভেঙে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে যে, আর্জেন্টিনা ফিফা ও সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশেষ সমর্থন পেয়ে থাকে।
ব্রাজিলের সাও পাওলোর সমর্থক ফ্রান্সিসকো সান্তোস বলেন, ‘ব্রাজিল যদি ষষ্ঠ শিরোপা জিততে না পারে, তাহলে আর্জেন্টিনার চতুর্থ শিরোপার চেয়ে স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা দেখতে চাই।’
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার বাসিন্দা হুয়ান কামিলো আবুসাইদও বলেন, ‘আমরা স্পেনকেই সমর্থন করব।’
মেক্সিকোর পুলিশ কর্মকর্তা আন্তোনিও লোপেজ লিওনেল মেসিকে ‘কিংবদন্তি’ বললেও মন্তব্য করেন, ‘মাঠে ঘাম ঝরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে সেটি মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু রেফারিদের সহায়তায় জিতলে নয়।’
এদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, ফাইনালে তারা কাকে সমর্থন করছেন। জবাবে উপস্থিত সাংবাদিকেরা একসঙ্গে ‘স্পেন, স্পেন’ বলে সাড়া দেন।
কলম্বিয়ার সমাজবিজ্ঞানী গোমেজের মতে, দিয়েগো ম্যারাডোনাকে একসময় ফিফার ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বিদ্রোহী হিসেবে দেখা হলেও বর্তমান সময়ে অনেকের চোখে মেসি ফিফার ‘সোনার ছেলে’।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেইর রাজনীতিও কিছু সমর্থকের বিরূপ মনোভাবের কারণ হয়ে উঠেছে। চিলির সান্তিয়াগোর বাসিন্দা রাশিদ সিওবার্গ বলেন, ‘মাইলেইকে আমার একেবারেই পছন্দ নয়। আর্জেন্টিনা জিতলে তিনি এটি নিয়ে গর্ব করবেন—এটি ভালো লাগে না।’
এ ছাড়া অতীতে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থক ও খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগও রয়েছে। এবারের বিশ্বকাপ চলাকালে এক আর্জেন্টাইন সমর্থক কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন সম্প্রচারক আইশোস্পিডকে বর্ণবাদী মন্তব্য করলে ফিফা এর নিন্দা জানায়।
তবে সমালোচনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনার অনুশীলন ভেন্যুগুলোতে মেসিকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে মুখর ছিল গ্যালারি।
অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার আঞ্চলিক সংহতির কথা উল্লেখ করে পেরুর শিক্ষার্থী ভ্যালেন্তিনো টক্টো বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনাকেই সমর্থন করব, কারণ এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ।’
/অ